
নাসিরনগরের গোয়ালনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গোষ্ঠীর ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত অর্ধশতাধিক,
খ,ম,জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর
(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ভাটি অঞ্চল গোয়ালনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গোষ্ঠীর তিন ঘন্টা ব্যাপী ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামে এই ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা নাসিরনগর সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির সমর্থক গোয়ালনগর গ্রামের রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমান আদালতে তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ নিয়ে জিয়াউর রহমান একই গ্রামের কাসেম মিয়ার গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করতে থাকে এবং প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠে। গত এক সপ্তাহ আগে জিয়াউর গোয়ালনগর গ্রামে শিশু মিয়াকে তার মোটরসাইকেলসহ আটক করে মারধর করে এবং মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়।
এ নিয়ে রহিম গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর মধ্যে বেশ কিছুদিন যাবৎ উত্তেজনা চলে আসছিল।
আজ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ সকালে রহিম তালুকদারের লোকজন কাসেম গোষ্ঠীর বাড়ি ঘরে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে উভয় গোষ্ঠীর লোকজন মাইকে ঘোষনা দিয়ে টেঁটা, বল্লম, দা সহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে যায়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধ শত জন আহত হন।
এ ব্যাপারে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুর ইসলাম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই সংঘর্ষের ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংঘর্ষের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

খ ম জাহিদ হোসেন 









